ভারতের মৃত্তিকা সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী।

ভারতের মৃত্তিকা সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী এই লেখাটিতে আলোচনা করা হল। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আশা করি এগুলি তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। তোমরা নিজেরা মনোযোগ সহকারে পড়ো এবং প্রশ্নগুলো তোমাদের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো।
ভারতের মৃত্তিকা সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী

মৃত্তিকা কাকে বলে?

ভেঙে যাওয়া শিলার সূক্ষ্ম দানা, জীবিত ও মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ, খনিজ পদার্থ, জল, বাতাস, মাটি প্রভৃতি দ্বারা ভূপৃষ্ঠের ওপরে যে পাতলা স্তর তৈরি হয়, যেখান থেকে উদ্ভিদরাজি পুষ্টি সংগ্রহ করে। তাকে মৃত্তিকা বলে।

        জলবায়ু, আদি শিলা, জৈব পদার্থ, ভূপ্রকৃতি ও সময়ের ওপর নির্ভর করে মাটি তৈরি হয়।

ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ লেখ।

ভারতে মূলত ছয়টি ধরনের মৃত্তিকা দেখা যায়। যথা –

1. পলি মাটি:

             মূলত নদীবাহিত পলি থেকে এই মাটি সৃষ্টি হয়। পলিমাটি উর্বর হওয়ায় এই মাটিতে প্রায় সবরকমের ফসলি চাষ করা হয়। নদীর প্লাবনভূমি, ব-দ্বীপ অঞ্চলে পলিমাটি দেখা যায়। নদী তীরবর্তী উর্বর নবীন পলিমাটিকে ‘খাদার’ বলে এবং পার্শ্ববর্তী অনুর্বর প্রাচীন পলিমাটিকে ‘ভাঙ্গার’ বলে।

বন্টন:

      উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও অসমের একটি বড়ো অংশে পলিমাটি দেখা যায়।

2. কালো মাটি:

             ব্যাসল্ট শিলা গঠিত অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়। এর জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি। এই মাটি যথেষ্ট উর্বর প্রকৃতির হয়। 

   তুলা, আখ ও চিনাবাদাম চাষের জন্য এই মাটি আদর্শ।

    Read- শব্দদূষণ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন।

বন্টন:

        গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের বেশিরভাগ অংশে এবং কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে এই মাটি দেখা যায়।

3. লাল মাটি:

          রূপান্তরিত শিলা বহু বছর ধরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লোহার পরিমাণ বেশি থাকে বলে এর রং লাল। এই মাটিতে জলসেচ ও সারের প্রয়োগ করে চাষ-আবাদ করা যায়।

     রাগি, বাদাম, তামাক, ধান, ছোলার চাষ হয় এই মাটিতে।

বন্টন:

ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরালা, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অংশে এই মাটি দেখা যায়।

4. ল্যাটেরাইট মাটি:

               খুব বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র জলবায়ু দেখা যায় সেখানে এই মৃত্তিকা দেখা যায়। লৌহ অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গাঢ় লাল। এই মাটি অনুর্বর প্রকৃতির হয়। 

     চিনেবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি এই মৃত্তিকায় চাষ হয়।

Read- বরফে ঢাকা মহাদেশ বা আন্টার্কটিকা সম্বন্ধীয় কিছু প্রশ্ন।

বন্টন:

    ছোটোনাগপুর মালভূমি, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতের কিছু অংশে এবং মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশে ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।

5. মরু অঞ্চলের মাটি:

              খুব কম বৃষ্টিপাত ও অত্যধিক উষ্ণতা যুক্ত অঞ্চলে এই মাটি সৃষ্টি হয়। এই মাটি মোটাদানা ও ছিদ্রযুক্ত। জলধারণ ক্ষমতা কম এবং অনুর্বর। অত্যধিক বাষ্পীভবনের কারণে এই অঞ্চলের মাটিতে লবণের পরিমাণ বেশি। 

     প্রধানত জোয়ার, বাজরা, রাগি জাতীয় ফসল চাষ করা হয়।

বন্টন:

রাজস্থানের মরু অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

6. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি:

             প্রধানত আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে এরকম মাটি সৃষ্টি হয়। এতে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে। 

   চা, কফি, বিভিন্ন ধরনের মশলা, এই মাটিতে খুব ভালো চাষ হয়। 

বন্টন:

    হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমঘাট পর্বত এবং দাক্ষিণাত্যের নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

মাটি সংরক্ষণের উপায় লেখ।

মাটির উপরের স্তরে নানা জৈব পদার্থ থাকে। এই স্তর ক্ষয় হলে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে। মাটি আমাদের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই মাটি সংরক্ষণ করা দরকার। মাটি সংরক্ষণের পদ্ধতি গুলো হল –

  • অনেক বেশি সংখ্যায় চারা গাছ লাগাতে হবে। ছোটো গাছ কেটে ফেলার পরিবর্তে বড়ো গাছ কাটা যেতে পারে।
  • পশুচারণ নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। গোরু, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতির পশুদের ক্ষুরের আঘাতে মাটি ক্ষয় হয়।
  • পাহাড়ের ঢালু অংশে ধাপ কেটে চাষ করতে হবে। ফলে বৃষ্টির জলে মাটি ক্ষয় হয়ে বয়ে যেতে পারে না।
  • সমোন্নতিরেখা বরাবর চাষ করতে হবে।
  • মাটির বেশি গভীরের খনিজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করা উচিত।

Read- বায়ুদূষণ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন

This post was updated on 2023-02-22 17:58:10.

Leave a Comment

error: Content is protected !!